স্বদেশ ভাবনা কমাতে হবে ধানের উৎপাদন ব্যয় !

সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে ১০ লাখ টন আমন ধান ও চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ছয় লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ টন ধান, সাড়ে ৩ লাখ টন সিদ্ধ এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল। ১০ মার্চ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য মোতাবেক ৫ মার্চ আমন সংগ্রহ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ৫ মার্চ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪০৭ টন সিদ্ধ চাল, ৪৩ হাজার ৪০১ টন আতপ চাল এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৫৭ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। আমন সংগ্রহ নিয়ে ১১ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ দুই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৫৭ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

আর কৃষিমন্ত্রী ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনায় বাজারের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। এ মুহূর্তে মোটা ধান প্রায় ৮০০ টাকা। চিকনটার দাম অস্বাভাবিকভাবে একটু বেশি ১২০০/১৩০০ টাকা। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন (যুগান্তর, ১২ মার্চ)। খাদ্য মন্ত্রণালয় অনেক বছর পর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনেছে- এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে যে প্রশ্নটি উঠতে পারে তা হল, আমন ধান কাটা-মাড়াই মৌসুমের প্রথমদিকে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ধানচাষীরা চালকল মালিকদের কাছে প্রকারভেদে এক মণ ধান বিক্রি করল ৬০০-৭০০ টাকায়, আর যখন তাদের ঘরে ধান নেই, তখন প্রকারভেদে প্রতি মণ ধানের দাম ৮০০ থেকে ১৩০০

টাকা? আবাদযোগ্য জমি আছে দেশের এমন কৃষক পরিবারগুলোকে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়- এই চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘সেন্সাস অফ এগ্রিকালচার ১৯৯৬’ রিপোর্ট অনুযায়ী যাদের নিজস্ব জমির পরিমাণ ০.০৫ থেকে ২.৪৯ একর, তারা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষী পরিবার (households)। যারা ২.৫০ থেকে ৭.৫০ একর জমির মালিক তারা হলেন মাঝারি কৃষক পরিবার। ৭.৫০ একর এবং এর চেয়ে বেশি জমির মালিক যারা, তারা হলেন বড় কৃষক পরিবার। উল্লিখিত শুমারি অনুযায়ী প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক পরিবারগুলোর সংখ্যা যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। তাছাড়া রয়েছেন ভূমিহীন কৃষক।

এরা বর্গা বা লিজ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করেন। অবশ্য অনেক প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীও নিজের জমি চাষ করাসহ বর্গা বা লিজ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করেন। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষী পরিবারগুলো ফসল উৎপাদন কর্মকাণ্ডের অন্যতম চালিকাশক্তি। একাধিক কারণে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ধানচাষীরা সরকার নির্ধারিত ধানের দাম পান না। এক. তারা ধারদেনা করে ফসল ফলান। ধারদেনা পরিশোধ এবং সংসারের নানা অভাব-অনটন মেটাতে তাদের ধান কাটা-মাড়াই মৌসুমের শুরুতেই ধান বিক্রি করতে হয়