গরিবদের মাসে মাসে ১২ হাজার রুপি দেবে পাকিস্তান !

করোনা মহামারীর মধ্যে গরিব ও নিু আয়ের এক কোটি মানুষকে মাসে মাসে ১২ হাজার রুপি করে দেবে পাকিস্তান। খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে চার মাস ধরে দেয়া হবে মানবিক এই পরিষেবা। এই সময়ে একজন পাবে মোট ৪৮ হাজার রুপি। দরিদ্রদের ওপর করোনাভাইরাসের আর্থিক প্রভাব কমিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশাসন। পাকিস্তানের দু’দিন আগেই দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের সহায়তার ঘোষণা দেয় ভারতও।

লকডাউন পরিস্থিতিতে তিন রুপি কেজি দরে চাল ও দুই রুপিতে গম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। আগামী তিন মাস ধরে প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে এই পরিষেবা দেয়া হবে। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। খবর ডন, এনডিটিভির। করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। বড় সংকটের মুখে পাকিস্তানি অর্থ ব্যবস্থাও।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতে, করোনার মধ্যে ১.৬ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান। এর ফলে কৃষি, ব্যবসা, হোটেল ব্যবসা, অবকাঠামো খাত ও পরিবহন বিভাগও বড়সড়ও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তা সত্ত্বেও দেশের দরিদ্র জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটির সরকার। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, এক কোটি মানুষের জন্য ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজে

মোট ১৪ হাজার ৪০০ কোটি রুপি ব্যয় করবে সরকার। ‘এহসাস’ নামে সরকারে সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তায় ইতোমধ্যে বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে যোগ করে বণ্টন করা হবে। করোনা ঠেকাতে মঙ্গলবার ভারতজুড়ে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি। ওইদিন মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয় আইন। পরদিন বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ঘোষণা দেন, ভারতের দরিদ্র ও নিু আয়ের মানুষদের তিন রুপি কেজি দরে চাল ও দুই রুপিতে গম সরবরাহ করা হবে।

আগামী তিন মাস এ পরিষেবা দেয়া হবে। এর আওতায় দেশটির প্রায় ৮০ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। পাশাপাশি চুক্তিবদ্ধ সব অস্থায়ী কর্মীদের পুরো মাসের বেতন দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। করোনার করালগ্রাসে গোটা বিশ্ব। ভাইরাস বড় থাবা বসিয়েছে পাকিস্তানেও। দ্রুতই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টাতেই পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় মোট ১১৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। মোট আক্রান্ত হাজারেরও বেশি। এখন পর্যন্ত মৃত্যু ১১ জন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত দেশে লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেননি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেই দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৭। এদের ৪৭ জন বিদেশি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১১৯ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

পাকিস্তানে করোনা আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কারও শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা দিলেই তাকে তড়িঘড়ি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাঠানো হচ্ছে। গিলগিট-বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের রাখা হচ্ছে। মূল ভূখণ্ডকে মুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে এতে অবশ্য মোটেও খুশি নন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিটের বাসিন্দারা।